নিজস্ব প্রতিনিধি, পেকুয়া:
পেকুয়ায় নিজ জীবন, পরিবার, স্ত্রী ও সন্তানদের নিরাপত্তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করলেন উজানটিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সহসভাপতি মো: মিজানুর রহমান। রবিবার সকাল ১০ টার দিকে পেকুয়া প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জামায়াত নেতা মিজানুর রহমান বলেন, পেকুয়া উপজেলা যুবলীগের সাবেক সহসভাপতি ও উজানটিয়ার সাবেক চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম চৌধুরী গং বিগত ২০০৯ সালের ফ্যাসিস্ট আ’লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে আমাকে বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় অভিযুক্ত করে এলাকাছাড়া করে। আমার একমাত্র আয়ের উৎস গোদার পাড় স্টেশনের দোকানটি বন্ধ করে দিয়েছিল। এমনকি বিভিন্ন সময়ে আমাকে মেরে ফেলার হুমকি ধমকি দিয়ে আসছিল। ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে একটি মিথ্যা মামলা দিয়ে ঘরছাড়া করে। এ দিকে যুবলীগ নেতার ভাতিজা ছাত্রলীগ নেতা মৃত রোকন চৌধুরীর পুত্র সাইদুল ইসলাম কাফি, মোশারফের পুত্র আলমগীর গং স্বামীর অনুপস্থিতিতে রাতের অন্ধকারে আমার বসতঘরে প্রবেশ করে অবুঝ শিশু ও আমার স্ত্রীকে অস্ত্র ঠেকিয়ে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে আমার স্ত্রীকে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণ করে। উক্ত ঘটনাটি তারা ভিডিও ধারণ করে হুমকি প্রদান করেন যে, বিবাদীগণ এ ঘটনা কাউকে প্রকাশ করলে আমাকে, আমার স্ত্রী, সন্তানদের প্রাণে মেরে ফেলবে এবং উক্ত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেবে। তখন থেকে আমার স্ত্রী নিরব ভূমিকা পালন করে। এমনকি আমার স্ত্রীকে অভিযুক্ত সাইদুল ইসলাম কাফি, মো: আলমগীর দীর্ঘ দুই বছর যাবৎ আমার স্ত্রীক ধর্ষণ করে। ৫ আগস্টের পর স্বৈরাচারের পতনের পর কিছুদিন আত্মগোপনে চলে যায়। পরবর্তীতে পুনরায় এলাকায় এসে নানা ধরনের হুমকি ধমকি দিয়ে যাচ্ছে। মিজানের স্ত্রী তৈয়বা জন্নাত বলেন, অভিযুক্তগণ পুনরায় হুমকি দিয়ে ধর্ষণ করার চেষ্টা করে। তখন আমি একান্ত বাধ্য হয়ে আমার স্বামীকে ঘটনাটি অবহিত করি। এ ঘটনার প্রতিবাদ করলে বিবাদীগণ প্রকাশ্যে অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে আমার স্বামীর দোকানে গিয়ে হামলা করে। এ সময় আমার স্বামীকে হামলা করে গুরুতর জখম করে। এ ঘটনায় আমার স্বামী বাদী হয়ে মামলা রুজু করে। মামলায় সাবেক যুবলীগ নেতা শহিদুল ইসলাম চৌধুরীসহ অন্য আসামীদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারি হয়। এরপরও বিবাদীগণ থেমে থাকে নি। গত শনিবার বিকেলে সাবেক যুবলীগ নেতা শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে আমার বসতবাড়ি ঘেরাও করে। আমি তাৎক্ষণিক পেকুয়া থানা পুলিশকে খবর প্রদান করি। পেকুয়া থানার এস,আই রুহুল আমিন সঙ্গীয় পুলিশ ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। এ দিকে মামলার বাদী মিজান বলেন, ওই বিবাদীগনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা থাকা স্বত্তেও পুলিশ তাদেরকে গ্রেপ্তার করেনি। বরং তাদের নিকট থেকে গোপনে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে বাদী মিজান প্রশাসনের নিকট তার স্ত্রী, সন্তানদের নিরাপত্তা দাবী করেন। এ বিষয়ে পেকুয়া থানার এস,আই রুহুল আমিন বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছি। শান্তি শৃংখলা বজায় রাখার চেস্টা করেছি।
Leave a Reply