নিজস্ব প্রতিনিধি:
চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের সিকদারপাড়া-বাক্কুমপাড়ার বাসিন্দা সত্তর বছরের বৃদ্ধ ফয়েজ আহমেদ সহ তার ছোট ছেলে বাহারাইন প্রবাসী আরিফুল ইসলামের ৮মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী সোনিয়া শিফাত মিনাকে বেদড়ক মারধর,ভাংচুর,স্বর্ণালংকার,নগদ টাকা সহ আসবাবপত্র লুটপাট করার তাদের ঘর থেকে বের দেয় বড় ছেলে তারেক ও তার সৎ শাশুড়েরা।পরে তারা বসত-ভিটা আর পাঁকা ঘরটি জবর-দখল করে নেন তারেক।
ঘটনাটি গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে পরিকল্পিত ভাবে ঘটনানো হয়েছে।এবিষয়ে মামলা রুজু করা হয়েছে।
এবিষয়ে অন্তঃসত্ত্বা আরিফের স্ত্রী মিনা বাদী হয়ে চকরিয়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন,যার মামলা নং-২৩১০/২৫ইং।বিজ্ঞ বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে সরাসরি ওয়ারেন্ট জারি করেছেন।
মামলার আসামীরা হলেন-মোঃ তারেক,সামিরা ইয়াছমিন,জেসমিন আকতার সহ অজ্ঞাত আরো ৪/৫জন স্বশস্ত্রধারী লোকজন।
মামলার বাদী মিনা জানান-আমার স্বামী বিদেশ রয়েছে।সে সুবাধে আমার স্বামীকে বসত-ভিটা আর পাঁকা দালান ঘরটি থেকে বঞ্চিত করার জন্য আমার শাশুড় বৃদ্ধ ফয়েজ আহমেদ সহ আমাকে অর্তকির্তাবস্হায় সংঘবদ্ধ হয়ে আমার ভাসুর তারেক সহ অন্য আসামীরা পরিকল্পিত ভাবে আমাদেরকে বেদকড় মারধর করে।পরে আমাদেরকে ঘর থেকে বের করে দিয়ে,আমার স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা সহ প্রায় ২০লাখ টাকা লুটপাট করেছে ও আসবাবপত্র ভাংচুর করেছে।তারপর তারা বসত-ভিটা আর পাঁকা ঘরটি জবর দখল করে আছেন।আমাদের ঘটনা শোনে আমার ননদের জামাই গিয়াস উদ্দিন মিমাংসা করার জন্য ছুঁটে আসেন।তখন সন্ত্রাসী কায়দায় তাকে বেদড়ক মারধর করেছে।
বৃদ্ধ ফয়েজ আহমেদ জানান-আমার বড় ছেলে তারেক আমাকে আর তার ছোটভাই আরিফের স্ত্রীকে মারধর,ভাংচুর ও স্বর্ণালংকার লুটপাট করেছে।তার আগে সৎ অবৈধ ব্যবসায়ী শাশুড়েরা মিলে আমাদেরকে ঘর থেকে বের দিয়েছে।বর্তমানে আমি আত্মীয় স্বজনদের বাসা-বাড়ীতে আশ্রয় নিয়েছি,থাকছি।আমার পুত্র বধু তার পিতার বাড়ী চলে যান।তাই আমার বাড়ী-ঘর,বসত-ভিটা জবরদখল করে রাখার দায়ে ছেলে তারেক,সাইফুল,শহীদু সহ আরো ৩/৪জনের বিরুদ্ধে আদালতে পিটিশন দায়ের করি।আশা করি বিজ্ঞ বিচারক আমাকে আমার ঘর,বসত-ভিটা ফিরিয়ে দিবেন।পুলিশ তদন্তে আসলে,পুলিশের সামনে শহীদ আমাকে হাতুড়ি দিয়ে মেরেছে।
আরেক জখমী গিয়াস উদ্দিন জানান-ফয়েজ আহমদ আমার চাচা ও শাশুড় হয়।শাশুড় বাড়িতে ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে শোনে আমি সমাধানের লক্ষে এগিয়ে যায়।কারণ বাড়ী আমার বসত বাড়ীর লাগোয়া পশ্চিমে।আমি শাশুড় বাড়িতে পৌঁছে কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই তারেক,সাইফুল,শহীদ সহ আরো ৩/৪লোক আমাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে জখম করে দেয়।তখন আমি জানে বাঁচার জন্য ছাড় পেয়ে দৌড়ে চলে যায়।বর্তমানে বাড়ি জবরদখল করে রেখেছে তারেক বাহিনী।বর্তমানে তারা আমাকে প্রাণে মেরে ফেলার লক্ষে দুই দফা বৈঠক করেছে জেনেছি।আমি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে আমি আমার প্রাণের নিরাপত্তা সহ শাশুড় বাড়িটি উদ্ধার করার বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি বলে জানান।
অভিযুক্ত তারেক জানান-আমার চার বোনের মধ্যে দুই বোন আমাদের থেকে কিছু টাকা পাওনা আছে।আমিও টাকা পাই।এসব বিষয় আমার পিতা অস্বীকার করে।তাই এসব উদ্ধার না পর্যন্ত আমি এধরণের ঘটনা করে যাব।আমি ছাড়া কাউকে ঘরে ডুকতে দিব না।আমার বিরুদ্ধে যা ইচ্ছে করুক।
Leave a Reply