দেলোয়ার হোসেন রশিদী:
১৯ বছর আগের একটি হত্যা মামলায় চার জনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে চট্টগ্রামের আদালত। কক্সবাজারের কুতুবদিয়ার চাঞ্চল্যকর এরশাদুল হাবীব রুবেলকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডের এই আদেশ দেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। মামলার মোট ৮ আসামীর মধ্যে বাকি চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীত ভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় বেকসুর খালাস দেন।
আজ বুধবার (৭ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সিনিয়র জজ হেমায়েত উদ্দিন এই রায় ঘোষণা করেন।
রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আশরাফ হোসেন চৌধুরী রাজ্জাক বলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া থানার আবু তাহেরের ছেলে জাহেদুল ইসলাম ফরহাদ (২৭), গোলাম মোস্তফার ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন সোহেল (৩০) আবু তাহেরের ছেলে আবু এরশাদ জুয়েল (৩২), ও আবু ইউসুফের ছেলে রুস্তম আলী (২৭)। তাদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।
খালাসপ্রাপ্ত চার আসামি হলেন- তৌহিদুল ইসলাম আরফাত, হোসাইন মোহাম্মদ সাজ্জাদ, মোহাম্মদ সৈয়দ এবং আজহারুল ইসলাম ছোটন। এই রায়ে আমরা আংশিক সন্তুষ্ট। পূর্ণ ন্যায়বিচারের দাবিতে আমরা উচ্চ আদালতে আবেদন করবেন। রায় ঘোষণার সময় আদালতে জাহেদুল ইসলাম ফরহাদকে কারাগার থেকে হাজির করা হয়। বাকি আসামীরা পলাতক রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয় বলে তিনি জানান।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালের ১৫ অক্টোবর কুতুবদিয়ার বড়ঘোপ এলাকায় সম্পত্তি নিয়ে বিরোধে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করা হয় এরশাদুল হাবীব রুবেলকে। ঘটনার দুই দিন পর ১৭ অক্টোবর রুবেলের মা মমতাজ সুফিয়া আক্তার শেফালী ১৮ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। ২০০৮ সালে কুতুবদিয়া থানা পুলিশ আটজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। ১৫জন সাক্ষি আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন। আদালত শুনানি শেষে আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। ২০১০ সালে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর দীর্ঘ ১৯ বছর পর মামলার রায় ঘোষণা করল আদালত।
Leave a Reply