পেকুয়া প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের পেকুয়ায় শিলখালীতে নুরুল আবছার (৪৫) নামের ব্যক্তিকে চেতনানাশক খাইয়ে নগদ ৫০ হাজার টাকা ও ১ টি স্মার্টফোন লুট করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় স্থানীয়রা অজ্ঞান অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ করেন। রবিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩ টার দিকে উপজেলার শিলখালী ইউনিয়নের কাছারীমোড়ায় এ ঘটনা ঘটে। নুরুল আবছার শিলখালী ইউনিয়নের জারুলবুনিয়া দক্ষিণজুম এলাকার আলী হোসেনের ছেলে।
স্থানীয় সুত্র জানান, ওই দিন বিকেলে নুরুল আবছার শিলখালী স্কুল ষ্টেশনে বসে স্থানীয়দের সাথে গল্প গুজব করছিলেন। এ সময় একই ইউনিয়নের মাঝেরঘোনার বাদশা মিয়ার পুত্র খানে আলম এসে নুরুল আবছারকে জরুরী কাজের কথা বলে কাছারীমোড়া স্টেশনের ভেতরে কসাইপাড়ায় নিয়ে যান। সেখানে ১ টি বাড়িতে নিয়ে গিয়ে নুরুল আবছারকে কৌশলে চেতনানাশক খাইয়ে দেন। এ সময় নুরুল আবছার ওই বাড়িতেই অজ্ঞান থাকেন। এতে করে নুরুল আবছারের কোমরে থাকা ৫০ হাজার টাকা ও ১ টি বিদেশী মুঠোফোন ছিনিয়ে নেয়।
নুরুল আবছার জানান, ঘটনার দিন দুপুরে আমি গ্রামীণ ব্যাংকের বরইতলীর কুতুববাজার শাখা থেকে ৫০ হাজার টাকা উত্তোলন করেছি। শুটকি ব্যবসার জন্য আমার স্ত্রী ওই ব্যাংক থেকে টাকা লোন নেন। টাকা নিয়ে আমি স্কুল স্টেশনে বসে গল্প করছিলাম। চেয়ারম্যানের সাথে আমি মূলত দেখা করতে গিয়েছিলাম। খানে আলম আমার দু:সম্পর্কীয় আত্মীয়। তার বাড়ি মাঝেরঘোনায়। হঠাৎ এসে কাজ থাকার কথা বলে আমাকে কসাইপাড়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে গিয়ে অপরিচিত একটি বাড়িতে আমাকে ঢুকিয়ে ফেলে। আমার সন্দেহ হচ্ছিল। খানে আলমসহ ২/৩ জন আমাকে ধস্তাধস্তি করে কোমল জাতীয় বস্তু পান করাই। এরপর আমি কিছুই জানিনা। তারা আমার কাছ থেকে টাকা ও মোবাইল ফোন নিয়ে ফেলে। শুনেছি আমাকে রাস্তা থেকে জারুলবুনিয়ায় নিয়ে আসা হয়েছে। গ্রাম পুলিশ রমজান আলী জানান, বিষয়টি আমরা শুনেছি। খানে আলমকে লোকজন পাকড়াও করার চেষ্টাও করেছে। নুরুল হাকিম জানান, নুরুল আবছারকে অজ্ঞান করে টাকা ও মোবাইল নিয়ে ফেলেছে। আমরা খানে আলমকে এ ব্যাপারে জানতে চেষ্টা করেছি। কিন্তু সে পালিয়ে গেছে। নুরুল আবছারের স্ত্রী মোতাহেরা জানান, আমার স্বামী বেকার। ব্যবসার জন্য ব্যাংক থেকে লোন নিয়েছি। এ টাকা তার পকেটে ছিল। খানে আলম আগে থেকে বিষয়টি জানতেন। তাই পরিকল্পনা মাফিক আমার স্বামীকে নিয়ে গিয়ে অজ্ঞান করে টাকাগুলি নিয়ে ফেলেছে।
Leave a Reply