পেকুয়া প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের পেকুয়ায় প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে তিন মোটর সাইকেল আরোহী কিশোরকে পেটানো হয়েছে। এর জের ধরে পেকুয়ায় রাজাখালী ও বারবাকিয়াসহ দুই ইউনিয়নবাসীর মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। খবর পেয়ে পেকুয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সৃষ্ট ঘটনা নিয়ে গত ১ সপ্তাহ ধরে পেকুয়ায় পৃথক দুটি স্থানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এ নিয়ে পরষ্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। বিরোধকে কেন্দ্র করে দুটি মোকামে কয়েকদফা ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। উত্তেজনা প্রশমিত করতে আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী সেখানে টহল জোরদার করে। রাজাখালী ইউপির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম সিকদার বাবুল রাতে ঘটনাস্থলে পৌছেন। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করেন তিনি।
স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, ১৫ অক্টোবর রাত ৯ টার দিকে বারবাকিয়া ইউনিয়নের তিন কিশোর মোটর সাইকেল নিয়ে ফাঁসিয়াখালী থেকে রাজাখালীর বামুলারপাড়ায় যান। ডাবল ব্রীজ নামক স্থানে ভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা তিন কিশোরের গতিবিধি সন্দেহজনক ছিল। এতে করে স্থানীয়রা ওই তিনজনকে সেখান থেকে চলে যেতে বলছিলেন। এর সুত্র ধরে মোটর সাইকেল আরোহী তিনজনকে স্থানীয় কয়েকজন মিলে হেনস্থা করে। স্থানীয়রা জানান, বারবাকিয়া ইউনিয়নের নোয়াখালীপাড়া তাজেম উদ্দিনের ছেলে ইয়াসিন বামুলারপাড়ায় এক কিশোরীর সাথে প্রেম করছিলেন। তাকে কয়েকদফা বারণও করা হয়েছে। ঘটনার দিন রাতেই একই সুত্র ধরে হেনস্থাসহ হাতাহাতি হয়েছে। এ খবর রাতে তার নিকটাত্মীয়রা অবহিত হন। দ্বিতীয় দফায় রাত ১০ টার দিকে ফাঁসিয়াখালী থেকে ৩০/৪০ জনের উত্তেজিত লোকজন বামুলারপাড়ায় গিয়ে স্থানীয়দের সাথে মারামারিতে জড়ান। এ সময় দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতিসহ মারপিট হয়েছে। খবর পেয়ে পেকুয়া থানার এস,আই বিষ্ণসহ সঙ্গীয় পুলিশ ফোর্স সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। দ্বিতীয় দফায় গ্রাম পুলিশসহ ইউপি চেয়ারম্যানও সেখানে যান। এ ব্যাপারে বামুলারপাড়ার বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম নবীর পুত্র বদিউল আলম জানান, প্রেম নিয়ে বাকবিতন্ডা হয়েছে। ইয়াসিন তার বাড়ি বারবাকিয়ার নোয়াখালীপাড়ার লোকজনকে হেনস্থার এ খবর পৌছায়। এরপর সেখান থেকে ৩০/৪০ জন এসে এখানে মারপিট করে। আমিসহ স্থানীয়রা পরিস্থিতি শান্ত করেছি। পরে দেখি পত্রিকা ও ফেইসবুকে আমাকে হামলার প্রধান উল্লেখ করে সংবাদ তৈরী করে। এখানে টাকা লুটপাট হয়নি। বামুলারপাড়ায় আমার কিছু প্রতিপক্ষ আছে। তারা ফাাঁসিয়াখালীর কিছু মানুষকে নিয়ে আমিসহ আমার পরিবারের সদস্যদেরকে মামলায় জড়ানোর পাঁয়তারা করছে। আমার বাবা গোলাম নবী গেজেটপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা। এখানে আমরা অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছি। সে দিন আমি বাহির থেকে লোকজনকে নিরাপত্তা দিয়েছি। কিন্তু এদের আচরণে স্থানীয়রা উত্তেজিত হয়েছিল। স্থানীয় সমাজ কমিটির সর্দার আমির হামজা, মোক্তার, প্রত্যক্ষদর্শী ওসমান সওদাগর, দর্জি রুবেল, ওয়ার্কশপের মালিক সাহাব উদ্দিন, ভাঙ্গারী ব্যবসায়ী নুর হোসেনসহ অনেকে জানান, ফাঁসিয়াখালী থেকে এসে রাতে তারা এখানে তান্ডব চালায়। স্থানীয়রা একটু উত্তেজিত হয়েছিল। তবে বড় ধরনের মারপিট হয়নি। আমাদের সমাজের মুরব্বীরা এসে পরিস্থিতি শান্ত করে। এখানে টাকা লুট, মোটর সাইকেল ভাংচুরও হয়নি। মিথ্যা অপপ্রচার করে স্থানীয় কয়েকজনকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। অপরদিকে বারবাকিয়া ইউনিয়নের নোয়াখালী পাড়ার তাজেম উদ্দিন জানান, আমি একজন ব্যবসায়ী। সে দিন বকশিয়াঘোনায় সিরাত মাহফিল ছিল। ডাবলব্রীজের সামনে হামলাসহ টাকা লুট করেছে। আমি থানায় এজাহার দিয়েছি। পেকুয়া থানার এস,আই মফিজুল ইসলাম এর সাথে মুঠোফোনে কথা বলা হয়। তিনি মোবাইলে বক্তব্য দিতে সম্মত হননি। এ প্রতিবেদককে থানায় যেতে বলছিলেন। এরপর মুঠোফোন কেটে দেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা।
Leave a Reply