রিয়াজ উদ্দিন,পেকুয়া:
কক্সবাজারের পেকুয়ায় এখনো পল্লী বিদ্যুতের লাইন বিচ্ছিন্ন থাকায় ৬টি ইউনিয়ন অন্ধকারে রয়েছে। ঘুর্ণিঝড় হামুনের তান্ডবে পেকুয়ায় ৭ টি ইউনিয়নে পল্লী বিদ্যুতের লাইন বিচ্ছিন্ন ছিল। গত এক সপ্তাহ ধরে পল্লী বিদ্যুতের সরবরাহ না থাকায় ওই এলাকার শিক্ষার্থী, শিক্ষক, শিক্ষা প্রতিষ্টানে পাঠদান ও এলাকার মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপনে স্থবিরতা নেমে এসেছে।
পল্লী বিদ্যুত সুত্র ও এলাকাবাসী সুত্রে জানা যায়, পেকুয়ায় ঘুর্ণিঝড় হামুনের তান্ডবে লন্ডভন্ড হয়ে যায় বসতবাড়ি ও পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি। ৩০ অক্টোবর (সোমবার) পেকুয়া সদর ইউনিয়নের পুরো এলাকা পল্লী বিদ্যুতের লাইন চালু হয়। এরপর বারবাকিয়া, টইটংয়ের পাহাড়ী এলাকা, শিলখালী, রাজাখালী, উজানটিয়া, মগনামার অধিকাংশ এলাকায় এখনো পল্লী বিদ্যুতের আলো পৌছেনি। ফলে ওই এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কলকারখানা, পানি নিষ্কাশনের মেশিন, এমনকি মোবাইলের চার্জ দেওয়া থেকে এলাকাবাসী বঞ্চিত রয়েছে। যে ৬ টি ইউনিয়নে বিদ্যুতের আলো এখনো পৌছেনি সেই ইউনিয়নে কমপক্ষে ৩০/৩৫ টি উচ্চ বিদ্যালয়, প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, হাফেজখানা ও এতিমখানাসহ অসংখ্য প্রতিষ্টান রয়েছে। সেখানে হাজার হাজার শিক্ষার্থী অন্ধকারে লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছে। রাজাখালী ফৈয়জুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম জানান, বিদ্যালয়ে ও আমার নিজ গ্রামে বিদ্যুত না থাকায় আমরা দারুণ দুর্ভোগে দিনাতিপাত করছি। তিনি আরো জানান, সামনে শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা। ঘুর্ণিঝড়ের কারণে বিদ্যুত না থাকায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকমহল ভালভাবে লেখাপড়ার পরিবেশ পাচ্ছে না। রাজাখালী ইউনিয়নে অবস্থিত বকশিয়াঘোনা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাস্টার রমিজ উদ্দিন জানান, আমার বিদ্যালয়ের চারপাশে পল্লী বিদ্যুতের খুটি ভেঙ্গে যাওয়ায় ৭ টি দিন ধরে বিদ্যুত বঞ্চিত এলাকাবাসী। ফলে বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়ার দারুণ ব্যাঘাত ঘটছে। তারা লেখাপড়ার ভাল পরিবেশ না পাওয়ায় সামনে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে পারছে না।
এ বিষয়ে পেকুয়া পল্লী বিদ্যুতের ইনচার্জ দীপন চৌধুরী জানান, ঘুর্ণিঝড় হামুনের তান্ডবে পেকুয়া উপজেলার ৭ টি ইউনিয়নে ১৫৭ টি বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙ্গে গেছে। প্রায় এলাকায় বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে গেছে। বর্তমানে আমার পল্লী বিদ্যুত অফিস থেকে রাত-দিন চেষ্টা করে পেকুয়া সদরে বিদ্যুত চালু করা সম্ভব হয়েছে। এখনো শিলখালী, রাজাখালী, টইটং, মগনামা, বারবাকিয়াসহ অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুত পৌছাতে পারেনি। আশা করি কয়েকদিনের ভিতর বিদ্যুত পৌছে যাবে।
Leave a Reply