পেকুয়া প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের পেকুয়ায় হামলায় একই পরিবারের ৫ বোন আহত হয়েছে। বয়ো:বৃদ্ধ মায়ের সম্পত্তি নিয়ে ভাই-বোনের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে আপন ভাইয়ের লেলিয়ে দেয়া ভাড়াটে লোকজনের হামলায় তারা ৫ বোন আহত হয়েছে। ৯ মার্চ (শনিবার) সকাল ৬ টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের উত্তর মেহেরনামা চৈরভাঙ্গা ষ্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। আহতরা হলেন-চৈরভাঙ্গার সাবেক আনসার কর্মকর্তা আজিজুল হকের স্ত্রী রোকেয়া বেগম (৪৭), মেহেরনামা বাজারপাড়ার মো: ইব্রাহীমের স্ত্রী নিলুফা আক্তার (৬০), চকরিয়ার ইসলামনগরের মৃত ফোরকানের স্ত্রী এলমুন্নাহার (৫৪), শিকলঘাটার জালাল উদ্দিনের স্ত্রী লুৎফা বেগম (৫৭), পেকুয়া সদর ইউনিয়নের সরকারীঘোনার মো: আমিনের স্ত্রী রুপিয়া বেগম (৪২)।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ২০ শতক জায়গা নিয়ে সদর ইউনিয়নের উত্তর মেহেরনামা চৈরভাঙ্গায় বিএনপি নেতা শাহ আলম ও তার ৯ ভাই-বোনদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। জায়গাটি শাহ আলমের মা ছেমন খাতুনের খরিদা সম্পত্তি। ১৯৮৯ সালের দিকে স্থানীয় বাদশাহ গংদের কাছ থেকে ওই জমি ছেমন খাতুন খরিদ করেন। পাশর্^বর্তী স্থানে ১৭ শতক জমি ভরাট করে শাহ আলম দোকান নির্মাণ করে। ছেমন খাতুনের খরিদা অংশে তিনি সংষ্কারসহ বাড়ি তৈরীর কাজ আরম্ভ করেন। ঘটনার দিন সকালে ছেমন খাতুনের ছেলে বিএনপি নেতা শাহ আলমসহ তার অনুগত ১০/১৫ জনের উত্তেজিত লোকজন সদ্য নির্মিত স্থাপনায় ভাংচুর চালায়। এ সময় ছেমন খাতুনের ওয়ারিশরা এসে ওই কান্ডের প্রতিবাদ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শাহ আলম সহ তার অনুগত লোকজন মারধর শুরু করে। এতে করে শাহ আলম গংদের হামলায় একই পরিবারের আপন ৫ বোন আহত হন। শাহ আলমের ভগ্নিপতি আনসারের সাবেক কর্মকর্তা আজিজুল হক জানান, আমার শ^াশুড়ের নাম মৃত মৌলভী আমিরুজ্জামান। উনার ওয়ারিশ ৫ বোন ৫ ভাইসহ ১০ জন। শাহ আলম একাই সম্পত্তি ভোগ করার পাঁয়তারা করছে। শাহ আলমের মা ছেমন খাতুন জানান, আমার বয়স হয়েছে ৯৬ বছর। এ জায়গা আমার খরিদা সম্পত্তি। শাহ আলম অন্যায়ভাবে জবর দখলের চেষ্টা করছে। আমার মেয়েদেরকে মারধর করেছে। অভিযোগ অস্বীকার করে শাহ আলম জানান, জায়গাটিতে আমি মাটি ভরাট করেছি। ৬/৭ লক্ষ টাকা খরচ করেছি। অহেতুক তারা এসে আমার সাথে অন্যায় করছে। পেকুয়া থানার ওসি মো: ইলিয়াছ জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Leave a Reply