।।এ এম ওমর আলী।।
কক্সবাজারের চকরিয়া ও পেকুয়ার প্রত্যন্ত গ্রামে খবরের নেশায় ছুটে চলা সংবাদকর্মীটি এখন বিশ্বের বিখ্যাত “নিউইয়র্ক শহরে”। সেখানে নিয়োজিত আছেন সংবাদ অন্বেষণে। চকরিয়া উপকূল প্রান্তে জন্ম নেয়া সেই টক-বগে সু-দর্শন ও বিচক্ষণ চেলেটি আজ সেই বিখ্যাত শহর নিউইয়র্কের সু-পরিচিত সাংবাদিক, সম্পাদক ও সাংবাদিক নেতা। আমি বলছি ” সাংবাদিক শাহাবউদ্দিন সাগর’র কথা। শাহাবউদ্দিন সাগর সংবাদিক হিসেবে অতিপরিচিত লোক। অনেকই এখনো জানেন না যে তিনি এই মফস্বলে নেই। কারণ অসংখ্য নবীনের আগমনে প্রবীনদের ভুলতেই বসেছেন এখানকার লোকজন। শাহাবউদ্দিন সাগর আমেরিকার নিউইয়র্ক শহরে বসে সাংবাদিকতা করছেন কতকাল হয়ে গেলো। সেখানে যাওয়া মাত্র স্ব-স্ত্রীক টাইম টিভিতে বছরকাল অতিক্রম করে। এরপর প্রথম আলো, পরে সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকা “নবযুগ” এর সম্পাদক হলেন। অদ্যবধি তার সাহসী সম্পাদনায় প্রকাশ পাচ্ছে পত্রিকাটি। তিনি এখন সাংবাদিক নেতাও। আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক। আমি নিজে সংবাদ পেশায় আগমনলগ্নে তার সহযোগিতা ছিল অনন্য, দু’জনই একসাথে চলা সাত-আট বছর। খুব কাছ থেকে প্রত্যক্ষ করেছি, তার অদম্য ইচ্ছা ও আকাঙ্খা সংবাদ জগতে উচ্চতায় উঠার অনন্য দৃষ্ঠান্ত। কোন কিছু জানার, শেখার বাসনা ছিল তার প্রচন্ড আগ্রহ। তার এসব গুনাবলী আমাকে আকৃষ্ট করতো। সংবাদ লেখায় আমাকে জ্ঞান বিলাতেন তিনি। যা আমার কাজেও এসেছে। যা-ই হোক লব্ধ জ্ঞানের চর্চা চিল তার অসাধারণ একটি গুণ। মফস্বল সাংবাদিকতায় তিনি ছিলেন পটু। কখনো নকল করতে দেখিনি। সেই সময় আজকালের মত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে কপি পেস্ট সাংবাদিকতার সূযোগ ছিলনা। নিজেকে হাতে-কলমে লিখতে হতো। সংবাদ জগতে তার অপ্রতিরুদ্ধ উত্থান কয়েক সংবাদকর্মীর নিকট ঈর্ষার কারণ হতেও দেখেছি। কিন্তু এসব তার গায়ে আচঁড় লাগেনি। আজ থেকে ২০ বছর আগে একসাথে ৩/৪টি পত্রিকায় লিখেছেন তিনি। ককসবাজার জেলা থেকে এনটিভির মত বিখ্যাত ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াও কাজ করেন তিনি। হুট করে জেলা থেকে প্রস্থান করেন ঢাকায়। সেখানে শুরু হয় স্বপ্ন যাত্রা। সেখানে পর পর একাধিক পত্রিকায় স্থান করে নেয় কূটনৈতিক প্রতিবেদক এর জায়গা। এভাবে পৌছেন লালিত স্বপ্নে। পাঠকদের জ্ঞাতার্থে তার স্বল্প বৃত্তান্ত তুলে ধরলাম-
নাম শাহাব উদ্দিন সাগর। পেশায় একজন সাংবাদিক ও লেখক। বাংলাদেশের প্রভাবশালী কূটনৈতিক রিপোর্টার হিসেবে অধিক পরিচিত। জন্ম স্থান : বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার ঢেমুশিয়া গ্রাম।দ ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন লং আইল্যান্ডের ওশ্যানসাইডে। পিতার নাম শামশুল আলম। মাতার নাম ছায়ের খাতুন। দুই ভাই এবং চার বোন। শিক্ষা জীবনের হাতেখড়ি পশ্চিম বড় ভেওলা ইউনিয়নের ইলিশিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। হাইস্কুল-ইলিশিয়া জমিলা বেগম উচ্চ বিদ্যালয়। কলেজ জীবন-চট্টগ্রামের লোহাগড়ার আলহাজ্ব মোস্তাফিজুর রহমান কলেজ। অর্নাস ও মার্স্টাস -তেজগাঁও কলেজ (জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়)।
সাংবাদিকতা শুরু করেন মফস্বল শহর কক্সবাজার জেলার চকয়িার উপজেলায়। ১৯৯৭ সালে যোগ দেন সাপ্তাহিক চকোরী’তে। কর্মরত ছিলেন বার্তা সম্পাদক হিসেবে। ১৯৯৮ সালে কক্সবাজর থেকে প্রকাশিত দৈনিক সৈকত এবং পরবর্তীতে একই এলাকা থেকে প্রকাশিত আজকের দেশবিদেশ পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত হন (স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে)। ২০০০ সালে দৈনিক চকোরী’র বার্তা সম্পাদক এবং পরবর্তীতে সাপ্তাহিক মাতামহুরী পত্রিকার বার্তা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৮ সালে দৈনিক মাতৃভূমি এবং ১৯৯৯ সালে ঢাকার আজকের কাগজে (অধুনালুপ্ত) যুক্ত হন। আজকের কাগজ বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত রিপোর্টার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। একই সময়ে চট্টগ্রামের দৈনিক আজাদী পত্রিকার সঙ্গে সর্ম্পৃক্ত ছিলেন। ২০০৮ সালে বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল এনটিভির কক্সবাজারের স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে যোগ দেন। ২০১০ সালে ঢাকার যায়যায়দিন পত্রিকার প্রধান কার্যালয়ে স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে কাজ শুরু করেন। মাত্র ০৬ (ছয়) মাসের মাথায় কূটনৈতিক সংবাদদাতা হিসেবে প্রমোশন লাভ করেন। ২০১১ সালে যোগ দেন ঢাকা থেকে প্রকাশিত একমাত্র বাংলা অর্থনীতির কাগজ-অর্থনীতি প্রতিদিন-এ। ২০১২ সালের শুরুতে কূটনৈতিক রিপোর্টার হিসেবে ঢাকার দৈনিক মানবকন্ঠে যোগ দেন। ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। ২০১৫ সালের জুনে নিউইয়র্কের বাইল্যাঙ্গুয়াল টেলিভিশন চ্যানেল টাইম টেলিভিশন এবং সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকার কনসালটেন্ট হিসেবে কাজ শুরু করেন। ২০১৬ সালে নিউইয়র্কে প্রতিষ্ঠা করেন ২৪ ঘণ্টার বাংলা নিউজ পোর্টাল বাংলাওয়াল্ড২৪ডটকম। দায়িত্ব পালন করেন এক্সিকিউটিভ এডিটর হিসেবে। একই বছরের শেষের দিকে প্রতিষ্ঠা করেন ২৪ ঘণ্টার বাংলা নিউজ পোর্টাল মু্ক্তবার্তা২৪ডট কম। ২০১৭ সালে যোগ দেন প্রথম আলোতে। ডেপুটি ব্যুারো চীফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। প্রথম আলো উত্তর আমেরিকা সংস্করণ বাজারে আসার ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ২০১৭ সালের শেষে দিকে যোগ দেন নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক আজকাল পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে। ২০২০ সালে নিউইযর্ক থেকে প্রকাশ করেন সাপ্তাহিক নবযুগ। এ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
গবেষণাধর্মী বই: চোখে দেখা চকরিয়া- প্রকাশকাল ২০০৪ ইংরেজি, ঋতবর্ণ প্রকাশন, কক্সবাজার।
সাংবাদিকতার উপর বই: আশা নৈরাশ্যের সঞ্চয়-প্রকাশকাল, ২০০৪ ইংরেজি, ঋতবর্ণ প্রকাশন, কক্সবাজার।
জাতিঘের সাধারণ পরিষদ অধিবেশন কাভার: ২০১৪ ইংরেজি, ২০১৬ ইংরেজি, ২০১৭ ইংরেজি, ২০১৮ ইংরেজি
সার্ক সম্মেলন কাভার: ২০১০ ইংরেজি- ভুটান। ২০১২ ইংরেজি-মালদ্বীপ। ২০১৪ ইংরেজি- নেপাল।
বিদেশ ভ্রমণ: যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, ভারত, নেপাল, ভুটান ও মালদ্বীপ।
স্ত্রী: শামসুন নাহার নিম্মি এনটিভির সাবেক সিনিয়র নিউজ প্রেজেন্টার। একমাত্র সন্তান সাইফান নিহান।
সাংগঠনিক পরিচিতি: স্থায়ী সদস্য, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি।
স্থায়ী সদস্য- ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন-ডিইউজে- ২০১৫ ইংরেজি পর্যন্ত।
স্থায়ী সদস্য-বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন বিএফইউজে, ২০১৫ ইংরেজি পর্যন্ত।
কার্যকরী সদস্য: ডিপ্লোমেটিক করসপন্ডডেন্ট এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ডিক্যাব, ২০১৪-২০১৫ ইংরেজি।
সাধারণ সম্পাদক-আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাব, ২০১৮-২০২০ ইংরেজি।
Leave a Reply