পেকুয়া প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের পেকুয়ায় অপহৃত মাছ ব্যবসায়ীকে পাহাড় থেকে উদ্ধার করার চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। ১৯ মে (রবিবার) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার শিলখালী ইউনিয়নের জারুলবুনিয়ার দুর্গম পাহাড়ী এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়েছে। অপহৃত মাছ ব্যবসায়ীর নাম আবদুল কুদ্দুস (৪৫)। তিনি রাজাখালী ইউনিয়নের উত্তর সুন্দরীপাড়ার মৃত মোহাম্মদ হোসেনের পুত্র। এ দিকে অপহরণের ৪ দিন পরেই চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার তথ্য ফাঁস হয়েছে। এ নিয়ে বুধবার (২২ মে) সকালে পেকুয়ায় গণমাধ্যম কর্মীদের উপস্থিতিতে ওই ঘটনা নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে আবদুল কুদ্দুসসহ তার স্বজনরা। এ ব্যাপারে লিখিত বক্তব্যে আবদুল কুদ্দুসের স্ত্রী সোফাইদা বেগম (৩৫) জানান, ঘটনার দিন রাত ১০ টার দিকে আমার স্বামী চকরিয়ার মাছের আড়ৎ থেকে পেকুয়ার দিকে ফিরছিলেন। বরইতলী নতুন রাস্তার মাথায় আমার স্বামীকে পূর্ব থেকে উৎপেতে থ্কাা দুবৃর্ত্তরা টানা হ্যাচড়া করে সিএনজিতে তুলে ফেলে। এ সময় তাকে শিলখালীর জারুলবুনিয়ার পাহাড়ের দুর্গম স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। মূলত আমার স্বামী একজন মাছ ব্যবসায়ী। তারা ১০/১২ জন মিলে যৌথ অংশীদারিত্বে কাঁচা মাছের পাইকারী ব্যবসা করে। কয়েক মাস ধরে শেয়ারদারদের মধ্যে বনিবনা চলছিল। ওই দিন আমার স্বামী চকরিয়ায় আড়তে মাছ কিনতে গিয়েছিল। খবর পেয়ে অংশীদার আলী মোর্শেদ, নুরুল আবছার আমার স্বামীকে আটকাতে গিয়েছিল। তারা বহিরাগতসহ ১০/১২ জন গিয়ে আমার স্বামীকে ভীতি ও আতংক দেখিয়ে গাড়িতে তুলে ফেলে। চুরির অপবাদ দেওয়া হয়। নুরুল আবছারের স্ত্রী নিলুফা আক্তার আমার কাছে এসে বলেছে তার কাছ থেকে নাকি কে ৬ লক্ষ টাকাসহ ব্যাগ নিয়ে গেছে। আসলে এটি মিথ্যা অপবাদ। এ সময় সংবাদ সম্মেলনে আবদুল কুদ্দুস জানান, আমি হয়রানির শিকার। আমাকে নিয়ে অপবাদ করা হচ্ছে। আমি একজন মাছ ব্যবসায়ী। আবছারের স্ত্রীর কাছ থেকে কে ব্যাগ নিয়ে গেছে সে ফায়সালা তারা আমার কাছ থেকে চাচ্ছে। আমাকে রাস্তার মাথা থেকে ধরে নিয়ে পাহাড়ে জিম্মী করে রাখে। পরে তারা থানায় এনে দেয়। দায় এড়ানোর জন্য আমাকে চুরির অপবাদে জড়ানোর পাঁয়তারা করছে। আবদুল কুদ্দুসের বড় ভাই আবদুল খালেক জানান, ভাইয়ের খবর নিতে আমি আলী মোর্শেদ ও আবছারকে রাতে ফোন করি। তারা কৌশলে তাকে থানায় নিয়ে যায়। আসলে চুরির বিষয়টি হাস্যকর। ব্যবসা থেকে টাকা আত্মসাৎ করেছে। এখন যে কোন ভাবেই হউক আবদুল কুদ্দুসকে ব্যবসা থেকে তাড়াবে। এ জন্য এ অপবাদ। আমার ভাই ষড়যন্ত্রের শিকার। ব্যবসা করছে ২০ বছর। এ ব্যাপারে পেকুয়া থানার এস,আই ইব্রাহীম জানান, থানায় লিখিত অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হবে।
Leave a Reply