পেকুয়া প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের পেকুয়ায় আহমদ নবী (৪৫) নামক ব্যক্তির খোঁজ নেই লিবিয়ায়। মানবপাচারকারী চক্রের হাতেই সে দেশে জিম্মীদশায় পড়েছে বলে তার স্বজনরা জানান। এ দিকে নিখোঁজ স্বামীর সন্ধান পেতে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগে লিখিত আবেদন পাঠানো হয়েছে। মুক্তিপণ আদায়ে আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্র ও এ দেশীয় আদামবেপারী চক্রের মধ্যে যোগসাজসের চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
সুত্র থেকে জানা গেছে, পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া ইউনিয়নের বুধামাঝিরঘোনার মৃত শহর আলীর পুত্র আহমদ নবী ৪ বছর আগে লিবিয়ায় পাড়ি দেন। এর আগে ৮ বছর সে দেশে ছিল। ২ বছর দেশে থাকার পরই আবারো আফ্রিকার দেশ লিবিয়ায় পৌছে আহমদ নবী। ১৬ মে সন্ধ্যার দিকে লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলী থেকে তিনি নিখোঁজ হন। এ ব্যাপারে আহমদ নবীর স্ত্রী রোকেয়া বেগম জানান, ৪ বছর আগে আমার স্বামী লিবিয়ায় গেছে। সে দেশে অবস্থান করার সুবাধে এ দেশীয় কিছু মানুষের সাথে তার পরিচয় হয়। ১৬ মে সন্ধ্যার দিকে আমার স্বামীকে লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলী থেকে কৌশলে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়। সে দেশে তাকে জিম্মী করা হয়েছে। প্রায় সময় স্বামীর সাথে আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। নিখোঁজের বিষয়টি অবগত ছিলাম না। চকরিয়ার ফাঁসিয়াখালীর দিগরপানখালীর মহিউদ্দিনের স্ত্রী মোবারেকা বেগম আমাকে মুঠোফোনে জিম্মীর বিষয়টি অবগত করে। ওই মহিলার স্বামী লিবিয়ায় থাকে। আমাকে বলেছে স্বামীকে জিম্মী দশা থেকে ফেরাতে হলে ১ লক্ষ টাকা মোবারেকাকে দিতে হবে। কয়েকদিন ধরে ওই নারী আমাকে স্বামীর মুক্তিপণের জন্য বার বার টাকার প্রস্তাব দিয়েছে। অপরদিকে কুতুবদিয়ার কৈয়ারবিলের পরানসিকদারপাড়ার মৃত ইব্রাহীম খলিলের পুত্র মো: বশির আলমও লিবিয়ায় আছে বলে তথ্য সুত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। কয়েকদিন আগে তিনিও মানবপাচারকারীর খপ্পরে পড়েন বলে পরিবারসুত্র দাবী করে। তবে তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে আমার স্বামী ও বশির আলমের যৌথ ছবি পোস্ট করে। তারা কাল্পনিক ও রং ছিটানো তথ্য দিয়ে উল্টো আমার স্বামীকে মানব পাচারকারী হিসেবে অপপ্রচার করছে। আমার ধারণা চকরিয়ার মো: মহিউদ্দিন, পহরচান্দার বিবিরখিলের মিজান, কুতুবদিয়ার বশির আলম গংদের মধ্যে অনেকটা সখ্যতা রয়েছে। এরাই মানবপাচারকারী চক্রের অন্যতম হোতা। এ চক্রটির খপ্পরে পড়ে আমার স্বামী। এর প্রমাণ হচ্ছে তারা আমার কাছ থেকে মুক্তিপণ দাবী করছে মুঠোফোনে। আমার স্বামীর জিম্মীদশা ভিন্নখাতে প্রভাবিত করতে ওই চক্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, বিভিন্ন অনলাইনে কাল্পনিক তথ্য দিয়ে মিথ্যা সংবাদ ছড়াচ্ছে। আমি ও আমার সন্তানরা খুবই বিচলিত। উদ্বিগ্ন ও উৎকন্ঠার মধ্যে আছি। সংসারে এখন কঠিন মানবেতর অবস্থা। নেই অন্নসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য সমুহ। স্বামী বিদেশ থেকে টাকা পাঠালে সংসার চলে। আমি সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগে লিখিত আবেদন ও অভিযোগ পাঠিয়েছি।
Leave a Reply