নিজস্ব প্রতিনিধি,পেকুয়া:
কক্সবাজারের পেকুয়ায় পানি ও সেচযন্ত্র স্কীমের আধিপত্য নিয়ে স্থানীয় দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। কৃষি জমিতে বুরো চাষে পানি সরবরাহকে কেন্দ্র করে এ বিরোধ প্রকট আকার ধারণ করেছে। আধিপত্য নিতে এক পক্ষ আরেক পক্ষের বসতভিটা গর্ত করে তৈরী করেছে পানি ও সেঁচের জন্য ড্রেন। এতে করে দু’পক্ষের মধ্যে বাকবিতন্ডাসহ হাতাহাতির খবর পাওয়া গেছে। এ সময় কলেজ ছাত্রীসহ ৩ নারীকে হেনস্তা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার (৩ ফেব্রæয়ারী) দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার শিলখালী ইউনিয়নের সিকদারপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, শিলখালী ইউনিয়নের সিকদারপাড়ায় ৪০ একর বুরো চাষের জমিতে পানি ও সেঁচ সুবিধা দিচ্ছিলেন স্থানীয় মৃত গোলাম কাদেরের পুত্র নজরুল ইসলাম। দীর্ঘ ১৭/১৮ বছর ধরে তিনি কৃষি জমিতে সেঁচ সরবরাহ নিশ্চিত করে আসছিলেন। সরকারের কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন তালিকাভূক্ত এ সেঁচ প্রকল্পের আওতায় শিলখালী ইউনিয়নের সিকদারঘোনা, কাছারীমোড়া, বারবাকিয়া ইউনিয়নের আংশিকসহ বিপুল কৃষি জমিতে তিনি সেঁচ সুবিধা দিয়ে আসছিলেন। এ দিকে সম্প্রতি কৃষি জমির পানি ও সেঁচ সরবরাহ নিয়ে ্একই এলাকার আকতার আহমদ, আহমদ হোসন, লোকমান হোসেন গংদের লোলুপ দৃষ্টি পড়ে। এর জের ধরে ৩ ফেব্রæয়ারী গভীর রাতে লোকমান হোসেনসহ ১০/১৫ জনের লোকজন নজরুল ইসলামের মালিকানাধীন স্কীম ও সেঁচ প্রকল্পে হানা দেয়। এ সময় তারা নজরুলের বসানো সেঁচযন্ত্রটি উচ্ছেদসহ একই স্থানে বিকল্প ব্যবস্থায় পানি ও সেঁচ সরবরাহের জন্য ড্রেন তৈরী করে ফেলে। এমনকি নজরুল ইসলামের ভোগ দখলীয় বসতভিটা গর্ত করে সেখানে তৈরী করা হয় পানি নিষ্কাশনের জন্য নালা। জানা গেছে, ২০০৯ সালের ২০ ফেব্রæয়ারী শিলখালীর সিকদারঘোনায় লোকমান হোসেন ও নজরুল ইসলাম গংদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এ সময় প্রতিপক্ষের হামলায় নজরুল ইসলামের ছোট ভাই আরিফুল ইসলাম খুন হন। চাঞ্চল্যকর ওই হত্যাকান্ডের ঘটনায় জি.আর ২৪/০৯ মামলা চলমান আছে। ওই মামলায় লোকমান হোসেনসহ ১৩ জন এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাত আরো আসামীদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে। চাঞ্চল্যকর আরিফ হত্যা মামলায় বাদী ও বিবাদীপক্ষের মধ্যে সম্প্রতি পানি ও সেঁচ সরবরাহ ও স্কীমের আধিপত্য নিয়ে ফের দ্বন্ধ তৈরী হয়েছে। এ ব্যাপারে নজরুল ইসলাম জানান, ১৮ বছর ধরে এখানে আমার স্কীম আছে। ২০০৯ সালে তারা আমার ভাইকে নির্মমভাবে খুন করে। আসামীরা এখন বেপরোয়া আচরণ করছে। আমার বাড়িতে রাতে অনুপ্রবেশ করে কলেজ ছাত্রীসহ আমাদের পরিবারের ৩ নারীকে হেনস্তা করে তারা। এখন আমরা অবরুদ্ধ আছি নিরাপত্তা শংকায়। অপরদিকে এ সব অভিযোগ অস্বীকার করে লোকমান হোসেন জানান, আমি নির্দোষ। আমাকে হত্যা মামলায় মিথ্যায় আসামী করেছে। তারা আমার বাড়িঘর দখল করে ফেলেছে। আমি আমার ঘর ফেরত চাই। সেখানে পূর্ব থেকে আমার স্কীম ছিল। দেশান্তর হওয়ার পর স্কীমসহ ওই জায়গা নজরুল গং জবর দখল করেছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য শেখ ফরিদুল আলম জানান, আসলে লোকমানসহ এ পরিবারের উপর অবিচার ও জুলুম ছিল। এখন তারা ফের প্রতিষ্ঠিত হতে চায়।
Leave a Reply