পেকুয়া অফিস:
পেকুয়া উপজেলার রাজাখালীতে আদালতের রায়ে মুচলেকা দেয়ার পরও জমি দখলের অভিযোগ
ওঠেছে কথিত মসজিদ কমিটির বিরুদ্ধে। আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ও মুচলেখা
দেয়ার পরও মসজিদ কমিটির আড়ালে ২৮ মার্চ দিবাগত রাতে রাজাখালীর নতুন ঘোনা
এলাকায় ইউপি সদস্য হোছাইন শহীদ সাইফুল্লাহর মালিকানাধীন জমিতে ঘর নির্মাণ
করে জবর দখল করছে। পেকুয়া থানার এএসআই সোহেল রানা জানান, ৯৯৯ সেবাকলে
সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে রাতে ঘর নির্মাণকারীদের নিষেধ করি এবং ২৯মার্চ
বিকাল ৩টায় থানায় এসে কাগজপত্র দেখে সিদ্ধান্ত নিতে বলি। কিন্তু সকালে আবারো ঘর
নির্মাণ কাজ শুরু করলে পেকুয়া থানার এস.আই সুনয়ন গিয়ে নিষেধ করে আসলে কাজ
বন্ধ করে এবং ৩টায় থানায় আসার কথা বলেন, কিন্তু পুলিশ চলে আসার পর আবারো
নির্মাণ কাজ শুরু করে। মেম্বার সাইফুল্লাহ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কখনো খাস ও
মসজিদের দখলীয় জমি দাবী করে জবর দখলে নিতে রাজাখালীর পালাকাটার আবদুল মালেকের
ছেলে জাহাঙ্গীর, কালামিয়ার ছেলে, মাহমুদুল করিম, আকতার আহমদের ছেলে জাহাঙ্গীর,
কালামিয়ার ছেলে কামাল হোছাইন, উকিল আহমদের ছেলে আবদুল খালেক,আবদুল হকের
ছেলে, বেলাল, উকিল আহমদের ছেলে আবদুল হক,নুরুল হকের ছেলে, কবির হোছাইন তার
ক্রয়কৃত জমিতে হানা দিয়ে তাকে ও তার পরিবারকে বিপর্যস্ত করে তোলে। জবর দখলকারীরা
স্থানীয় ৮নং ওয়ার্ড় ও ইউনিয়ন আওয়ামলীগের পদবীধারী নেতা। দীর্ঘদিন ধরে পতিত
আওয়ামীলীগ সরকারের সাবেক এমপি জাফর আলমের প্রভাব খাটিয়ে তার জমি জবর দখল
করতে তাকে নানা ভাবে হয়রানি করে আসছিল। তাদের বিরুদ্ধে চকরিয়া সিনিয়র
জুড়িশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেড আদালতে মামলা দায়ের করেন। স্থানীয় ইউপি সদস্য হোছাইন
শহীদ সাইফুল্লাহ জমি গুলোর কাগজ পত্রে মালীকানা কার এসব বিষয় পর্যালোচনা করে
দেখাযায়, রাজাখালী মৌজার দিয়ারা ৩১৩ নং খতিয়ানের দিয়ারা ১৫১৫৪ দাগের ১.৫০ একর
জমির রেকড়ীয় মালিক আজিজুল হকের নিকট থেকে ৩১/০৮/২২ ইং ২৪২০ নং রেজিষ্ট্রি
কবলা মুলে ক্রয় করে তার নামে ৩৭৬২ নং দিয়ারা খতিয়ান প্রচার আছে। তিনি অদ্যবধি
জমি ভোগ দখলে আছেন। হোছাইন শহীদ সাইফুল্লাহ বলেন, স্থানীয় ভূমিদস্যুরা দীর্ঘ
দিন ধরে আমার ক্রয়কৃত জমি জবর করতে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালালে, তাদের বিরুদ্ধে
চকরিয়া জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ভূমি অরাধ প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়ের
করি। মামলা নং ৭১৮/২৪। এমামলা আদালতে মূচ লেখা দিয়ে ভবিষ্যতে জমি প্রবেশ করবেনা
বলেন। কিন্তু কোন কাগজপত্র না থাকা সত্বেও বর্তমানে স্থানীয় বায়তুল মামুর মসজিদের
সাইন বোর্ড লাগিয়ে তার জমি জবর করতে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড অব্যাহত রেখেছে।
কক্সবাজার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এমআর মামলা ৬৯২/২৩ মামলা দায়ের করলে
পেকুয়া উপজেলা ভূমি অফিস বারবাকিয়া ভুমি অফিসের তহসীলদার মোহাম্মদ ফিরোজ
সরজমিনে ও কাগজ পত্র পর্যালোচনা করে তদন্ত প্রতিবেদনে বিবাদীগনের কোন কাগজ পত্র
দখল নেই মর্মে প্রতিবেদন দাখিল করেন। নালিশী জমিতে বিবাদীদেরকে প্রবেশে চুড়ান্ত
ভাবে বারিত করে মামলার নিস্পত্তি ঘোষনা করেন। একই বিষয়ে প্রতিকার পেতে চকরিয়া
সহকারী জজ আদালতে জবর দখলকারীদের বিরুদ্ধে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়ে অপর মামলা
৫২৫/২২ দায়ের করেন। উক্ত মামলায় ৮/০২/২৩ ইং তারিখের ৭নং আদেশে ইউনিয়ন ভুমি
অফিসের প্রেরিত তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী বাদী সাইফুল্লাহর ক্রয় দলিল খতিয়ান দখল
স্বত্ব বলবদ থাকা ও বাদীর প্রার্থীত মতে ৩৯ অর্ডার ঙ্গ রুল ও ১৫১ ধারা মতে মামলা শেষ না
হওয়া পর্যন্ত নালিশী জমিতে বাদীর শান্তিপুর্ণ দখলে ব্যঘাত সৃষ্টি না করার জন্য, জমির
রুপ পরিবর্তন না করা, নতুন বসতঘর নির্মাণ না করার জন্য বিবাদীদের নিষেধাজ্ঞার
আদেশ জারি করেন। মামলাটি এখনো চলমান। মামলার বাদী বলেন, বিবাদীরা কোন কাগজপত্র
না থাকা সত্বেও ্ধসঢ়;আইন আদালতের তোয়াক্কা না করে জমি জবর দখল করে নিচ্ছে। সম্প্রতি
পেকুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ দুপক্ষকে থানায় স্পষ্ট বলেন, আদালতের বিচারাধীন রায়
না হওয়া পর্যন্ত জমিতে কোন পক্ষ কাজ না করতে নির্দেশ দিলেও মসজিদ কমিটির
ব্যানারে কিছু ভূমি দস্যূ এখন আবার জবর দখল করে নিচ্ছে। মেম্বার সাইফুল্লাহ বলেন,
পেকুয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে পুলিশের মাধ্যমে দফায় দফায় নিষেধ করা
সত্বেও তারা নিষেধ মানছেনা। সরজমিনে গিয়ে ঘর নির্মাণ করা লোকজনের কাছে
জানতে চাইলে তারা বলেন, মেম্বার সাইফুল্লাহর জমিতে ঘর নির্মাণ করছেনা এগুলো
মসজিদের জমি। মসজিদের নামে কোন কাগজ পত্র আছে কিনা জানতে চাইলে তারা বলেন,
এগুলো খাস জমি। বিরুধীয় জমিতে সরকারী ভাবে দূ:স্তদের জন্য ঘর নির্মাণের প্রকল্প
হাতে নিয়ে মাটি ভরাটের কাজ করা অবস্থায় মেম্বার সাইফুল্লাহ বাদী হয়ে মামলা করলে
জমি গুরু খাস না সাইফুল্লাহর ক্রয় করা ও খতিয়ানভূক্ত জমি হওয়ায় সরকারী ঘর নির্মাণ
প্রকল্প বাতিল হয়ে যায়। এব্যাপারে পেকুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ সিরাজুল মোস্তফার
কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কেউ জোর করে ঘর নির্মাণ করলে তার করার কিছুই নেই। এসিল্যান্ড, উপজেলা নির্বাহী
অফিসারকে অভিযোগ দিতে বলেন। তারা ডাকলে আমরা সেখানে যাব।
Leave a Reply