জাহাঙ্গীর আলম কাজল,নাইক্ষ্যংছড়ি:
রামুর গর্জনিয়া বাজার টু লেমুছড়ি সীমান্ত সড়কের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সীমান্তবর্তী দোছড়ি ইউনিয়নের প্রবেশ মুখ ও কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের ঢালার মুখ নামক অংশের একটি কালভার্ট ধসে গিয়ে ৫ দিন ধরে নাইক্ষ্যংছড়ি ও গর্জনিয়া বাজারের সাথে পুরো ইউনিয়নের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। জনগুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের এ অবস্থার কেউ খবর রাখেননি। ৫ দিন পেরিয়ে গেলেও বসকালভার্টটির সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের কোন ব্যবস্থা করা হয়নি। আজ ৭ জুন কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু মোহাম্মদ ইসমাইল নোমান পরিদর্শন করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান,গত ৪ দিন আগে একটি জ্বালানি তেল বোঝাই বড় গাড়ি (তেলের বউসার) বসকালভার্টটির উপ দিয়ে গেলে ধসে ভেঙ্গে গিয়ে সড়কে গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকেই ইউনিয়নের এ সীমান্ত সড়ক দিয়ে উপজেলা ও ১১ বিজিবি সদর দপ্তরে সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে অচল অবস্থা সৃষ্টি হয়। দোছড়ি বিএনপি নেতা নুরুল আমিন, সাবেক চেয়ারম্যান রশিদ আহমদ জানান এ সড়ক দেয়ে সীমান্ত সুরক্ষার নিয়োজিত ১১ বিজিবির ৫-৬টি বিওপি ক্যাম্পের বিজিবি সদস্যের চলাচল তাদের খাদ্য,রসদপত্র আনা নেওয়া ও দোছড়ি ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ,বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং ছাত্র-ছাত্রীদের চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এ জন্য দ্রুত সংস্কারের দাবী সচেতন মহলের।
দোছড়ি ইউনিয়নে যাওয়া আসার মূল সড়কের কালভার্টটি ভেঙ্গে পুরো ইউনিয়নের যোগাযোগব্যবস্থা প্রায় অচল হয়ে পড়ে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কে দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ আছে। লোকজন পায়ে হেঁটেই যাতায়াত করছে। এ ছাড়াও সড়কটির বেশ কয়েকটি অংশ ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম দেখা দিয়েছে যে কোন মুহুর্তে ধসে পড়ে দুর্ঘটনার আশংকা রয়েছে।
লেমুছড়ি সড়কের প্রবেশ মুখে কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের অংশে এ বক্স কালভার্টটি ধসে পড়ে। সড়কটি দিয়ে মূলত দেশের সীমান্তরক্ষায় নিয়োজিত বিজিবি সদস্যদের চলাচলের পাশাপাশি পুরো ইউনিয়নের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। মূল সড়কটি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় ব্যবসা-বাণিজ্যেও মন্দা দেখা দিয়েছে ওই এলাকার জনসাধারণের মাঝে। ব্যবসায়ীরা জানান, আজ ৫ দিন ধরে এলাকায় কোনো গাড়ি চলাচল করতে না পারায় বিজিবিসহ স্থানীয়দের মালামাল আনা-নেওয়ায় সমস্যা হচ্ছে। কারণ এ সীমান্ত সড়ক দিয়ে রয়েছে তার্গোছড়া,পাইনছড়ি,লেবুছড়ি,ফুলতলী, ভাল্লুক খাইয়াসহ ৫-৬টি বিজিবির বিওপি ক্যাম্প,এছাড়াও বনবিট,রাবার বাগান ও অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। যান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষেরা সীমাহীন ভোগান্তি পোহাচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী আলি আহমদ বলেন, প্রচণ্ড দুর্ভোগে মানুষ অবর্ণনীয় কষ্ট পাচ্ছে। কালভার্টটি গত বছর স্থানীয় ঠিকাদার নির্মাণ করেন। ঠিকাদারের অনিয়ম ও দূর্নীতির কারণে আজ এ অবস্থা। তারা দ্রুত
সংস্কার করের দাবি জানান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট। এ বিষয়টি ১১ বিজিবির অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল এস এম কফিল উদ্দিন কায়েসকে জানানো হলে তিনি বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের অবগত করা হবে বলে জানিয়েছেন।
Leave a Reply