তৌহিদুল ইসলাম কায়রু:
চট্টগ্রাম–১৫ (সাতকানিয়া–লোহাগাড়া) আসনে বিএনপির ঘোষিত প্রাথমিক মনোনয়নকে ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে তীব্র অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। তৃণমূল পর্যায়ের অসন্তোষ, মাঠের নেতাকর্মীদের প্রতিবাদ এবং দক্ষিণ জেলা বিএনপির তিন প্রভাবশালী নেতার প্রকাশ্য অসন্তোষ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার দাবিতে তিন নেতা ইতোমধ্যে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছেন। এতে পুরো আসনজুড়ে তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ।
বুধবার (১০ ডিসেম্বর) চট্টগ্রামের একটি রেস্টুরেন্টে দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র তিন শীর্ষ নেতার জরুরি বৈঠকের ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন— চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাতকানিয়া উপজেলা বিএনপি’র সাবেক আহ্বায়ক জামাল হোসেন, জেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক মুজিবুর রহমান, জেলা বিএনপি’র সিনিয়র সদস্য শেখ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন তারা সবাই প্রাথমিক মনোনয়ন বাতিল করে নতুনভাবে বিবেচনার দাবি জানান।
তৃণমূলের কাছে গ্রহণযোগ্যতা না থাকলে প্রার্থী টিকবে না বলে জামাল হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম-১৫ আসন দলীয় আন্দোলনের একটি কেন্দ্রবিন্দু। এখানে তৃণমূল খুব সচেতন। জনগণের আস্থা না থাকলে নির্বাচনী মাঠে দল বিপাকে পড়বে। বাস্তবতার আলোকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।
দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের মূল্যায়ন প্রয়োজন মন্তব্য করে মুজিবুর রহমান বলেন, যারা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন, মামলা–হামলার ঝুঁকি নিয়েছেন, তাদের অবদান অস্বীকার করা যায় না। তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া খুব স্পষ্ট এই মনোনয়ন পুনর্মূল্যায়ন করতেই হবে। জনপ্রিয়তা ও মাঠের বাস্তবতা বিবেচনায় প্রার্থী নির্ধারণ হোক বলে।
শেখ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, এলাকাবাসী কার প্রতি আস্থা রাখে তা দলকে বিবেচনায় নিতে হবে। ঘোষিত মনোনয়ন তৃণমূলের মনস্তত্ত্বকে ধারণ করতে পারেনি। তাই নতুন করে মূল্যায়ন জরুরি।
গত ৪ ডিসেম্বর বিএনপি প্রার্থী হিসেবে নাজমুল মোস্তফা আমিনের নাম ঘোষণার পর থেকেই সাতকানিয়া ও লোহাগাড়ার বিভিন্ন স্থানে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা মশাল মিছিল, প্রতিবাদ সমাবেশ এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে প্রতীকী অবস্থান কর্মসূচি পালন করে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবি জানান।
একজন স্থানীয় নেতা বলেন, দল যাকে ঘোষণা করেছে, তাকে দুঃসময়ে এলাকায় দেখিনি। ৫ই আগষ্টের পর বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১দফা বাস্তবায়নের যেই কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। প্রার্থী নিজ ইউনিয়নে একটা কর্মসূচিও পালন করেনি, এমন কি সাতকানিয়া উপজেলা ১১টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় কর্মী এবং সাধারণ জনগণ ঠিক মত উনাকে চিনেন না। প্রার্থী ঘোষণার পর থেকে কোনো সভা–সমাবেশ, মিছিল কিংবা নির্বাচনী কার্যক্রম কিছুই হয়নি।
আরেকজন বলেন, জনপ্রিয়তা, গ্রহণযোগ্যতা ও আন্দোলনে সক্রিয়তার ভিত্তিতে প্রার্থী ঠিক করতে হবে। আমরা চাই দল যেন জয়ের মতো প্রার্থী নিশ্চিত করে।
চট্টগ্রাম–১৫ আসন বিএনপি’র দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটি। প্রায় দুই যুগ পর ধানের শীষে নির্বাচনে ফেরার প্রেক্ষাপটে তৃণমূলের প্রত্যাশা ছিল উচ্চ।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তিন শীর্ষ নেতার কঠোর অবস্থান প্রার্থী বাছাইয়ের প্রশ্নে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। মাঠে নেতাকর্মীদের প্রতিক্রিয়াও এখন হাইকমান্ডের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।
সবাই এখন তাকিয়ে দলের হাইকমান্ড শেষ পর্যন্ত কি সিদ্ধান্ত নেয়?
মনোনয়ন কি পুনর্বিবেচনা হবে, নাকি আগের সিদ্ধান্তেই অটল থাকবে দল?
চট্টগ্রাম–১৫ আসনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন তাই চরম উত্তপ্ত ও নজরকাড়া।
Leave a Reply