আবদুর রহমান ইবনে আমিন,টেকনাফ প্রতিনিধি:
প্রত্যাবাসনে ইচ্ছুক ১০০ রোহিঙ্গার মতামত নিয়ে ফিরে গেছে মিয়ানমারের প্রতিনিধি দল। বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পৌরসভার টেকনাফ-মিয়ানমার ট্রানজিট জেটি দিয়ে বাংলাদেশ ত্যাগ করে প্রতিনিধি দলটি। ২৮ সদস্যের প্রতিনিধি দলটি বুধবারই ওই জেটি দিয়ে কাঠের ট্রলারে করে বাংলাদেশে আসে।
এর আগে মঙ্গলবারও টেকনাফের সরকারি রেস্ট হাউসে ১৬০ রোহিঙ্গা পরিবারের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করে মিয়ানমারের ৩৬ সদস্যের প্রতিনিধি দল। এর নেতৃত্ব দেন রাখাইন প্রাদেশিক সরকারের ইমিগ্রেশন ডিরেক্টর স নাইং। বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের পক্ষে নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মিয়ানমার অনুবিভাগের মহাপরিচালক মিয়া মো. মাইনুল কবির।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) সামছু দৌজা বলেন, দ্বিতীয় দিনের মতো রোহিঙ্গাদের সাক্ষাৎকার নিয়ে মিয়ানমার প্রতিনিধি দল ফিরে গেছে। এখানকার তথ্য দেশটির কর্তৃপক্ষকে তারা জানাবে।
টেকনাফের জাদিমুরা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নেতা বজলুর রহমান জানান, ‘রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে প্রায় একই রকমের বিষয় জানতে চাওয়া হয়। ৪৯ পরিবারের ১০০ জনের সাক্ষাৎকার নেন তারা। আমরা নিজ দেশে ফিরে যেতে চাই।’
বৈঠক শেষে মাইনুল কবির বলেন, চুক্তি অনুযায়ী এই আলোচনা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার অংশ। বিভিন্নভাবে আমরা চেষ্টা করছি যাতে রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায় তাদের দেশে ফেরত যেতে পারে। আলোচনা অব্যাহত থাকবে। আজ আবার আসবে এই প্রতিনিধি দল।
এর আগে ১৫ মার্চ ও ২৫ মে মিয়ানমার প্রতিনিধি দল দুই দফায় বাংলাদেশে আসে। ওই সময় প্রায় ৭০০ রোহিঙ্গার তথ্য যাচাই শেষে ফিরে যায় দলটি। একইভাবে রাখাইনে ফিরে যাওয়ার পরিবেশ দেখতে গত ৫ মে বাংলাদেশ সরকার ও রোহিঙ্গাদের একটি প্রতিনিধি দল রাখাইন সফর করে।
মিয়ানমারের পক্ষ থেকে ৬৮ হাজার রোহিঙ্গার তালিকা প্রস্তুত করা হয় ফেরত নেওয়ার জন্য। গত বছর জানুয়ারিতে ওই তালিকা থেকে পরিবারভিত্তিক প্রত্যাবাসনের জন্য প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ১৪০ জনকে বাছাই করা হয়।
Leave a Reply